মওদুদ আহমেদ সুজন
ডিসেম্বরের শুরুর দিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তৃণমূল কর্মী ৪৮ বছর বয়সী টিপু সুলতান ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাতে লেখা ছিল, ‘আমি বেগম খালেদা জিয়াকে আমার কিডনি দান করতে চাই।’
টিপু সুলতান এবং তাঁর সেই প্ল্যাকার্ডের একটি ভিডিও ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গত ২৩ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে এক ধরনের উদ্বেগ বিরাজ করছিল। টিপু তখন থেকেই হাসপাতালের গেটের উল্টো দিকের ফুটপাতে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর প্রতিজ্ঞা—নেত্রীর সুস্থতার খবর না পাওয়া পর্যন্ত তিনি এখান থেকে নড়বেন না।
আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘তিনি আমার মায়ের মতো। গণতন্ত্রের জন্য তিনি সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন। আমার একমাত্র প্রার্থনা, আল্লাহ যেন তাঁকে আসন্ন নির্বাচন দেখার সুযোগ দেন।’ তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের কথা বলছিলেন।
কিন্তু তা আর হলো না। ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ৭৯ বছর বয়সে বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তাঁর দল থেকে জানানো হয়।
ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি জানায়, ‘আমাদের প্রিয় জাতীয় নেতা আর আমাদের মাঝে নেই। আজ সকাল ৬টায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’
তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতে নির্বাসিত। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেই তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, যখন এই দুই নেত্রী—যাঁরা ‘ব্যাটলিং বেগম’ (লড়াকু বেগম) নামে পরিচিত ছিলেন—বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তবে হাসিনার মতোই খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকারও মিশ্র অভিজ্ঞতায় পূর্ণ। দুই নারীই কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। হাসিনার মতো খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমালোচকদের ওপর গণ-নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ নেই। তিনিও ছিলেন একজন মেরুকরণ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব। বিরোধী দলে থাকাকালীন তাঁর আপসহীন ভঙ্গি—নির্বাচন বর্জন এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজপথের আন্দোলন—তাঁর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র আনুগত্য তৈরি করেছিল।
রাজনৈতিক উত্থান
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন—যা তখন ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গ এবং বর্তমানে উত্তর বাংলাদেশ। তাঁর বাবা ইস্কান্দার মজুমদার মূলত দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা ফেনীর বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ভারতের জলপাইগুড়িতে চা ব্যবসা করতেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তাঁরা সপরিবারে পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। খালেদা জিয়া দিনাজপুরে শৈশব কাটান এবং দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন।
রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ কোনো পূর্বপরিকল্পিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং পরিস্থিতির আকস্মিকতায়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁর স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। বছরের পর বছর চলা ক্যু এবং পাল্টা ক্যু-এর পর জিয়াউর রহমান দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি এবং দেশের রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।
স্বামীর জীবদ্দশায় খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁকে এমন এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেছিলেন যিনি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন এবং জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার রক্ষা করতে পারবেন।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হন এবং পরে নির্বাচনে জয়ী হন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ একটি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন এবং সামরিক আইন জারি করেন। এই উত্তাল পরিস্থিতিতেই—যখন সেনাবাহিনী পুনরায় ক্ষমতায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ব্যস্ত—খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয় তখন। তিনি স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথের এক কেন্দ্রীয় বেসামরিক নেতায় পরিণত হন।
১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে খালেদা জিয়া সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন, ১৯৮৩ সালে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। পরবর্তী দশকগুলোতে তিনি তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে তিনি এবং তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ আধিপত্য বিস্তার করেন।
তাঁর জনজীবন ছিল ব্যক্তিগত টানাপোড়েনে ভরা। ২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান নির্বাসনে যান। তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে বিদেশে থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। খালেদা জিয়া নিজে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটান। এরপর কয়েক বছর রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং ক্রমাবনতিশীল স্বাস্থ্যের সঙ্গে লড়াই করেন তিনি।
হাসিনার পতনের পর নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিলে গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা ফেরেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, যিনি খালেদা জিয়া ও তাঁর স্বামীকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন, বলেন— ‘তাঁর পুরো জীবন ছিল কষ্টে ভরা, তবুও তিনি ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের চেয়ে দেশকেই বেছে নিয়েছিলেন। এ কারণেই রাজনৈতিক মতভেদ নির্বিশেষে তাঁকে তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রতীকী নেতা হিসেবে স্মরণ করা হয়।’
রাজনীতিতে আসার আগের জীবন
রাজনীতিতে আসার আগে খালেদা জিয়াকে যাঁরা চিনতেন, তাঁরা তাঁকে একজন লাজুক, মৃদুভাষী এবং বিনয়ী নারী হিসেবে বর্ণনা করেন। ১৯৬০ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন, যখন জিয়াউর রহমান জাতীয় কোনো পরিচিত মুখ ছিলেন না।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৭৭ সালে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন এবং ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠন করেন। খালেদা জিয়া পরে তাঁর স্বামীর সেই জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বাজারমুখী অর্থনীতির রাজনীতিই ধারণ করেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তাঁরা ঢাকা সেনানিবাসের ৬ মঈনুল রোডের একটি সাধারণ বাড়িতে বাস করতেন। তৎকালীন ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে কর্নেল) হারুনুর রশিদ খান সেখানে প্রেসিডেন্ট জিয়ার এইড-ডি-ক্যাম্প হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
কর্নেল খান আল-জাজিরাকে বলেন, ‘তিনি নিজেই ঘর সামলাতেন, অতিথিদের আপ্যায়ন করতেন এবং পারিবারিক বিষয়গুলো দেখাশোনা করতেন। আমি তাঁকে কখনো গলা উঁচিয়ে কথা বলতে দেখিনি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, দয়ালু এবং চিন্তাশীল।’
তিনি আরও জানান, সন্তানদের লালন-পালনেও খালেদা জিয়া ছিলেন শান্ত প্রকৃতির। ছোট ছেলে আরাফাত যখন স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছিল না, তখন তিনি ক্ষুব্ধ না হয়ে শুধু বিকল্প স্কুলের পরামর্শ চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে সবকিছু পাল্টে যায়।
সেই ভোরে কর্নেল খান জানতে পারেন চট্টগ্রামে এক দল সেনা কর্মকর্তার হাতে প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হয়েছেন। কর্নেল খান বলেন, ‘খবরটা শুনে এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। কিন্তু ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) তাৎক্ষণিকভাবে সেটা জানানোর সাহস পাইনি।’
দুই ছেলে সকালে স্কুলের জন্য তৈরি হয়ে বের হলেও খান তাঁদের আটকে দেন। কিছুক্ষণ পর খালেদা জিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘কী হয়েছে?’ খান শুধু বলেন যে বাইরে কিছুটা অস্থিরতা চলছে। বেশি কিছু না জিজ্ঞেস করে তিনি ঘরে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর ঘরের রেডিওতে তাঁর স্বামীর মৃত্যুর ঘোষণা প্রচার করা হলে তিনি সব বুঝতে পারেন।
কর্নেল খান সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘তিনি পিছিয়ে গিয়ে আমার চোখের দিকে তাকালেন এবং সব বুঝতে পারলেন। তিনি মেঝেতে বসে পড়লেন।’
জিয়াউর রহমান তাঁর পরিবারের জন্য কোনো ব্যক্তিগত বাড়ি রেখে যাননি। তাই সরকার পরবর্তীতে ৬ মঈনুল রোডের বাড়িটি স্থায়ীভাবে খালেদাকে বরাদ্দ দেয়। ২০১০ সালে হাসিনার সরকার কর্তৃক উচ্ছেদ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকতেন।
ফার্স্ট লেডি থেকে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতারা খালেদাকে রাজনীতিতে আসার অনুরোধ জানান। তাঁর উত্থান ঘটে এরশাদের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষের মধ্য দিয়ে। আশির দশকজুড়ে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন চালায়।
দিলারা চৌধুরীর মতে, ১৯৮৬ সাল ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এরশাদ তখন নির্বাচনের ঘোষণা দেন, যা বিরোধী দলগুলো অসাংবিধানিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তা বর্জন করে।
দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত তাঁর ভাবমূর্তিকে এমন এক নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যিনি আদর্শের প্রশ্নে আপস করেন না।’ এরশাদ আমলে বারবার গৃহবন্দি হওয়া তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে সামরিক শাসনের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পায়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১টি আসনের অভাব মেটাতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা হয়। দিলারা চৌধুরীর স্বামী গোলাম ওয়াহেদ চৌধুরীর মধ্যস্থতায় খালেদা জিয়া জামায়াত নেতাদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে বসেন। সেই আলোচনার পর জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন দিতে রাজি হয় এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর মাধ্যমে তিনি ইন্দিরা গান্ধী, সিরিমাভো বন্দরনায়েকে এবং বেনজির ভুট্টোর মতো দক্ষিণ এশীয় নারী নেত্রীদের কাতারে শামিল হন।
শাসনকাল ও সংস্কার
খালেদা জিয়া তিনবার দেশের নেতৃত্ব দেন: প্রথমবার ১৯৯১-৯৬, দ্বিতীয়বার ১৯৯৬ সালে স্বল্প মেয়াদে এবং সবশেষে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে। সমর্থকরা তাঁর শাসনকালকে অর্থনৈতিক উদারীকরণ, রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি এবং নারী শিক্ষার প্রসারের জন্য কৃতিত্ব দেন। তাঁর সময়েই বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ব্যাপক বিস্তার ঘটে এবং গণমাধ্যম তুলনামূলক স্বাধীনতা ভোগ করে। ২০০৬ সালে তাঁর মেয়াদ শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৭ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাংককে বলতে বাধ্য করেছিল যে বাংলাদেশ হবে ‘এশিয়ার পরবর্তী উদীয়মান বাঘ (Next Tiger Economy)’।
গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতি
বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার এবং দেশপ্রেম ছিল প্রশ্নাতীত। বিএনপিকে ভেঙে দেওয়ার অনেক চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু তাঁর আদর্শই দলটিকে টিকিয়ে রেখেছে।’
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অন্যান্য রাজনীতিকদের মতো খালেদা জিয়া তাঁর অবস্থান থেকে সহজে সরে আসতেন না। এরশাদবিরোধী আন্দোলন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি—সবক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনড়।’
এমনকি ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনার পতনের পর জেল থেকে মুক্তি পেয়েও তিনি সমর্থকদের প্রতিশোধ না নেওয়ার আহ্বান জানান।
মহিউদ্দিন বলেন, ‘এমনকি যখন রাজনৈতিক জোয়ার তাঁর অনুকূলে ছিল, তখনও তিনি কোনো উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার করেননি।’
বিএনপির ভবিষ্যৎ কী?
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এখন বড় প্রশ্ন—বিএনপির ভবিষ্যৎ কী? দলটির নেতৃত্ব এখন তাঁর একমাত্র জীবিত সন্তান তারেক রহমানের হাতে। দিলারা চৌধুরীর মতো অনেকে বিশ্বাস করেন যে দল এখন তারেক রহমানের অধীনে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে। ২৫ ডিসেম্বর নির্বাসন থেকে ফেরার পর তারেক রহমান একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ’ গড়ার কথা বলেছেন। এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো আগামী নির্বাচন। সেই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার উত্তরসূরির ওপর কতটা আস্থা রাখে।
লেখা: আল-জাজিরা থেকে সংক্ষেপিত

